যাদুর মাধ্যমে সন্তান প্রসব বাধাগ্রস্ত করে


 

(মহিলাদের ক্ষেত্রে) সন্তান ধারণ বা সন্তান প্রসব বাধাগ্রস্ত হওয়া: কোন নারীর বিরুদ্ধে ধরনের সমস্যা সৃষ্টির পিছনে কি কি ধরনের মোটিভ থাকতে পারে বা কোন্কোন্ধরনের ব্যক্তিরা কি কি কারণে জড়িত হয়ে থাকতে পারে, তার মধ্যে দুটি কারণ হলো— () পরিবারের মধ্যে কেউ একজন নিজে সন্তান লাভ করতে পারছে না বিধায় আপনার নির্বিঘ্নে সন্তান লাভের বিষয়টি সে সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না

এবং () আপনার মৃত্যু কামনা করে এমন কেউ সন্তান প্রসবজনিত দুর্ঘটনার ছলে আপনার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চায় যাতে মানুষ এটাকে নিছক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করে এবং আপনার অনিষ্টকামী ব্যক্তিকে সন্দেহ করতে বা আইনের আওতায় আনতে না পারে।

পরিবারের মধ্যে জিঘাংসা উদ্রেক করার মতন হিংসা মূলত দুটি বিষয় নিয়ে হয়ে থাকে। একটি হলো সন্তান, অপরটি হলো সম্পত্তি। কিন্তু আসলে এই দুটো কারণকে পৃথকভাবে না বলে একটি কারণের মধ্যেও গণ্য করা যায়। কারণ, বৈষয়িক চিন্তাধারাসম্পন্ন মানুষ সন্তান কামনাও করে থাকে মাতৃস্নেহ বা মমতার বশে নয়, বরং বৈষয়িক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকেই। পরিবারের মধ্যে যত যাদুটোনা হয়ে থাকে, তার প্রায় সবই হয়ে থাকে মূলত সম্পত্তির জন্যই। কাউকে যাদুর মাধ্যমে মারতে চাওয়ার পিছনে মনের মধ্যে কাজ করে সম্পত্তি লাভের আশা, অথবা হারানোর ভয়। সম্পত্তি লাভের আশাজনিত লোভ বা হিংসার উদাহরণ হলোকোন যৌতুকলোভী শাশুড়ী যখন বেয়াই বাড়ি থেকে প্রাপ্ত যৌতুককে অপ্রতুল অপর্যাপ্ত মনে করে, তখন তার মনে এই চিন্তা ঢোকে যে, অন্য কাউকে বউ করে আনলে হয়তো এর চেয়ে বেশি পেতাম। অথবা, এর কাছ থেকে যা পাওয়ার বা আদায় করার তা হয়ে গেছে, এবার একে বিদায় করে অন্য কাউকে বউ করে আনতে পারলে আরো ভালো কিছু পাওয়া যাবে। সম্পত্তি হারানোর ভয়জনিত লোভ, উদ্বেগ হিংসার উদাহরণ হলোপারিবারিক সম্পত্তিটা যার নামে রেজিস্ট্রিকৃত আছে, তার যদি পরিবার বংশধরের আগমন ঘটে, তখন সম্পত্তির একচেটিয়া অধিকার মালিকানা সব ওরা পেয়ে যাবে, আমরা কিছুই পাব না। অতএব, বেটার পরিবার বংশধরকে আঁতুড় ঘরে বিনাশ করে দিতে পারলেই সেটা 'বুদ্ধিমানের কাজ' হবে, 'আপদ বিদায়' হবে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ভাই-ভাবী আদৌ সম্পত্তি নিয়ে কিছু ভাবছে কিনা, সেটা জিজ্ঞেস বা যাচাই করে দেখারও প্রয়োজন অনুভূত হয় না।




কোন সম্পদশালী পরিবারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে উদ্বিগ্ন হিংসুক ব্যক্তিরা সম্পদের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে যাকে বাধা বা হুমকি মনে করে, প্রথমে তার বিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে। বিয়ে ঠেকানোর কাজটা যাদুর মাধ্যমেও হতে পারে; আবার প্রকাশ্য বিরোধিতা, বিবাদ সৃষ্টি ভাঙ্গানি প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। বিয়ের পাত্রীর কাছে ছেলেকে অক্ষম এবং ছেলের পরিবারে পাত্রীপক্ষকে সম্পত্তিলোভী সাব্যস্ত করে গণ্ডগোল পাকিয়ে বিয়ে ভেঙ্গে দেবার প্রয়াস চালানো হতে পারে। পরিবারে বিদ্যমান ঈর্ষাপরায়ণ বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক কাউকে পরিবারে হেয় বঞ্চিত করে রাখবার উদ্দেশ্যে তার বিয়ে ঠেকানোর প্রচেষ্টা এবং তাতে ব্যর্থ হলে ভিকটিমকে পারিবারিক জীবনে অসুখী নির্বংশ করে রাখবার জন্য আরো বড় রকমের অনিষ্ট নাশকতায় লিপ্ত হয়।আর এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক, না হওয়াই বরং অস্বাভাবিক। কারণ, সম্পত্তিলোভী বা সম্পত্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হিংসুক ব্যক্তিদের কাছে প্রতিপক্ষের বউয়ের আগমনের চেয়েও সন্তানের আগমন আরো বড় অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটা ঠেকানোর জন্য তাদের প্রচেষ্টা বিয়ে ঠেকানোর চাইতেও অনেক বেশি জোরালো হবে। বউ যেখানে সম্পত্তির সরাসরি উত্তরাধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও তার আগমনের পথে ব্যারিকেড বসানো হয়, সেখানে সন্তান তো সম্পত্তির সরাসরি উত্তরাধিকারী, কাজেই সেক্ষেত্রে হিংসুকদের attitude কি হবে এবং তাদের দ্বারা কী ঘটতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। আর বিয়ে ঠেকানোর পিছনেও মূল উদ্দেশ্য থাকে সন্তানের আগমন ঠেকানো, তাই সন্তান পেটে আসলে বা জন্মদানের সময় হলে বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিরা তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাবেএমন আশংকাই প্রবল

যাদুর মাধ্যমে প্রসূতি নারীর সন্তান প্রসবকালে প্রসূতি নবজাতক উভয়কে হত্যার চেষ্টার যাদুর শিকার আজকাল অনেকেই হয়ে থাকে।

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম