জ্যেষ্ঠা

   


 

জ্যেষ্ঠা

🦂বৃশ্চিক রাশির শেষ নক্ষত্র এই #জ্যেষ্ঠা জ্যেষ্ঠা অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ, অগ্রজ। পুরাণ মতে চন্দ্র দেব ২৭ জন রমণী কে বিবাহ করেছিলেন যারা প্রত্যেকেই ছিলেন একে অপরের বোন। এই ২৭ জন স্ত্রীই আসলে জন্মছকের ২৭টি নক্ষত্র। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ছিলেন জ্যেষ্ঠা। আর সবচেয়ে কনিষ্ঠ ছিলেন রোহিনী, যিনি ছিলেন অপরূপা সুন্দরী। অপরূপা সুন্দরী হবার জন্য চন্দ্রদেব তাকেই সর্বাধিক ভালোবাসতেন। অগ্রজ জ্যেষ্ঠা নিজের এবং বাকি বোনেদের প্রতি স্বামীর এই অবহেলা সহ্য করতে না পেরে পিতার কাছে মনের কষ্টের কথা জানান

পরিশেষে পিতার অভিশাপে চন্দ্র ক্রমশঃ ক্ষয় পেতে পেতে অমাবস্যার সৃষ্টি হয় এবং পরে মহাদেবের আশীর্বাদে পুনরায় ধীরে ধীরে নিজ রূপ ফিরে পেয়ে আবার পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় আকাশ স্নিগ্ধ আলোয় প্লাবিত হয়ে ওঠে

সেই থেকে জ্যেষ্ঠার সাথে স্বামী চন্দ্রের মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়, আর চন্দ্র বৃশ্চিকে এসে হয় নীচস্থ

বিশাখা নাম থেকে বাংলা মাসের নাম গণনা শুরু হোলো বৈশাখ এবং এই জ্যেষ্ঠা থেকেই পরের মাস জ্যৈষ্ঠ

এই নক্ষত্রের জাতক জাতিকাকে বাইরে থেকে দেখে কঠোর রাগী বা মুডি মনে হলেও এরা যেমন ভদ্র হয় তেমন মনও হয় খুব পরিষ্কার। কিন্তু দুঃখের বিষয় জ্যেষ্ঠা কে স্বামী চন্দ্রদেব যেমন ভুল বুঝেছিলেন ঠিক তেমনি এই নক্ষত্রে জন্ম নেওয়া জাতক জাতিকাকেও প্রিয় জনেরা খুশি মনে নেয় না বা এদের ভালোমানুষী ভালো চোখে দ্যাখে না। এরা যাদের জন্য ভালো চেয়ে কিছু বলতে বা করতে চায়, তারাই আবার এদের মন থেকে বিশ্বাস করতে পারে না

হায়রে মানব জাতি, কঠিন নারকেলের বুকেই লুকিয়ে থাকে স্নিগ্ধ শীতল সুমিষ্ট জল - অথচ তারা বাইরের কঠিন আবরণকেই দেখে সমালোচনায় সরব হয়।

এদেরকে বন্ধু হিসাবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। জীবনে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে এরা জ্যেষ্ঠ (টপার) হবেই বা হবার চেষ্টা করবেই - সে সংসারে সবার মাঝে ভালো রাঁধুনিই হোক, বন্ধু মহলে সেরা বন্ধু, আড্ডার সভাতে সেরা বক্তা বা এডুকেশন ক্ষেত্রে ৱ্যাঙ্ককারী স্টুডেন্ট

ছোটবেলায় রোগা থাকলেও বড়ো হবার সাথে সাথে হঠাৎ করেই যেন স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে। বহু বছর কেটে গেলেও বন্ধুর উপকার কিংবা শত্রুর অপকার - কোনোটাই এরা ভোলে না

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম