রামনবমী

 



রামনবমী ভগবান রামের জন্ম আবির্ভাব তিথি #ত্রেতা যুগে অযোধ্যার রাজা দশরথ রাণী কৌশল্যার গর্ভে রাম জন্মগ্রহণ করেন রাম বিষ্ণুর সপ্তম অবতার, ভগবান বিষ্ণুর মানবীয় রূপের প্রাচীনতম অবতার#এই পবিত্র দিন শুক্লপক্ষের নবম দিনে পড়ে, রাম নবমী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসবের মধ্যে একটি

#রামায়নের মূখ্য পুরুষ চরিত্র রাম তাঁর অনুজ ভরত, লক্ষন শত্রুঘ্নের জন্ম বেশ বিচিত্র মজার। শুনুন তাঁদের জন্ম কথা।

#অযোধ্যার রাজা ছিলেন অজ আর রানী ছিলেন ইন্দুমতি। তাঁদের এক ছেলে দশরথ। দশরথের বয়স যখন এক বছর তখন অজ আর ইন্দুমতি পরলোক গমন করেন। শিশু দশরথকে তখন কে দেখবে? ঠিক তখন বশিষ্ঠ মুনি তাঁকে নিয়ে গেলেন নিজ আশ্রমে। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন শাস্ত্র, অস্ত্রবিদ্যা শিখালেন,আরো দিলেন অন্যান্য প্রশিক্ষন। পাঁচ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহন করেন। ভৃগুরাম মুনি তাঁকে নিজ অস্ত্র দিলেন, শেখালেন শব্দভেদী বানের (তীর) ব্যবহার।

#তাঁর বয়স যখন ত্রিশ বছর তখন কোশল রাজার কন্যা কৌশল্যাকে বিয়ে করেন

#এরপর গিরিরাজ কন্যা কৈকেয়ীর স্বয়ম্বর সভায় রাজা দশরথ গেলে বাকি রাজাগন তাঁকে সসম্মানে কৈকেয়ীর সাথে বিয়ে দিয়ে দেন, তারা কোন আপত্তি করেননি

#এরপর রাজা দশরথ সিংহলের রাজা সুমিত্রের পরমা সুন্দরী কন্যা সুমিত্রাকে বিয়ে করেন। সুমিত্রাকে দেখে বাকি দুই রানী কৌশল্যা আর কৈকেয়ী হিংসায় তার দুর্ভাগ্যের জন্য শিবের আরাধনা করতে থাকেন

#রাজা দশরথ তিন সুন্দরী স্ত্রী নিয়ে মহানন্দে অন্তপুরে দিন কাটায় আর অন্যদিকে রাজ্যে অনাবৃস্টি, খরাতে ফসল সব ধ্বংস হয়ে যায়। না খেয়ে চারিদিকে লোক মারা যেতে লাগল আর তখন রাজার হুশ ফিরল। রাগে রাজা গেলেন স্বর্গলোকে এর প্রতিকারের জন্য। #ইন্দ্র তাঁকে বুঝ দিলেন, তারপর তিনি গেলেন শনিদেবের সাথে দেখা করতে যদি তার আনুকুল্য পাওয়া যায়। #শনিদেব ঘর থেকে রাজার দিকে তাকানো মাত্র রাজা দশরথের রথ ভেঙ্গে টুকরা হয়ে রথ থেকে পড়তে শুরু করলেন। তাঁর অবস্হা দেখে জটায়ু নামে এক পাখী তাঁকে নিজ পাখায় আশ্রয় দিল। তাতে রাজা প্রানে বাঁচলেন।



#রাজা আবার গেলেন শনির কাছে, তখন শনি বললেন তুমি আবার রাজ্যে গেলে তোমার রাজ্যে বৃষ্টি হবে ফসল হবে, আর তোমার ঘরে স্বয়ং নারায়ন পুত্ররুপে জন্ম নিবেন। এই ভাবে খরা কাটল আর রাজ্যে সুখ ফিরে আসল

#এরপর বহুকাল কেটে যায়। রাজার পুত্র সন্তান আর জন্ম গ্রহন করে না। অন্যদিকে রাবন নামে রাক্ষসরাজ প্রচন্ড প্রতাপে তখন লংকায় রাজত্ব করছিলেন। তিনি ব্রক্ষ্মার বরে অমর ছিলেন।

#সেই বর পেয়ে তিনি মনুষ্য দেবতা সবাইকে দারুন হেনস্হা করছিলেন। নারায়ন তখন রাবন বধ করার জন্য গরুড় নামক এক অসাধারণ ক্ষমতাবান পাখিকে নিয়ে রাবন মারতে যাবার পরিকল্পনা করেন। তখন ব্রক্ষ্মা তাদের বুঝিয়ে বলেন যে তার বরেই রাবন দেবতার অবাধ্য। এখন যুদ্ধ হলে দেবতারা রাবনকে বধ করতে পারবেননা

#নারায়নের প্রশ্নের উত্তরে ব্রক্ষ্মা জানালেন যে স্বয়ং নারায়ন রঘু বংশে দশরথের ঔরশে কৌশল্যার গর্ভে পুনরায় জন্ম নিবেন এবং রাবনকে বধ করতে পারবেন। #এদিকে নারায়ন জন্ম নিবেন মানুষ রুপে তাঁর পত্নী লক্ষ্মী তখন যাবেন কোথায়? তখন ব্রক্ষ্মা বললেন লক্ষ্মী মিথিলার রাজা জনকের রাজ্যে সীতা হয়ে জন্ম নিবেন। আর অন্য দেবতারা যায় কোথায়? তারা তখন সবাই বানর হয়ে জন্ম নিবেন বলে ঠিক হল

#তখন রাজা দশরথ পুত্র সন্তানের জন্য যজ্ঞ করেন এবং যজ্ঞের মুনি ঋষ্যশৃঙ্গ যজ্ঞ থেকে একটা ফল পান এবং সেই ফল রাজাকে দিয়ে তাঁর পত্নীদের খাওয়াতে বলেন।

#সেই মোতাবেক দশরথ ফল নিয়ে দুই ভাগ করে তার প্রধান দুই রানী কৌশল্যা আর কৈকেয়ীকে খেতে দেন। এমন সময় ৩য় রানী সুমিত্রা এসে কান্নাকাটি করল পুত্রলাভে ফলের জন্য। তখন কৌশল্যা দয়াবতী হয়ে তার ভাগের অর্ধেকটা ফল আরো দুভাগ করে একভাগ সুমিত্রাকে দেন।

#যথাসময়ে কৌশল্যার ঘরে রাম জন্ম নিলেন। 'দিন পর কৈকেয়ীর ঘরে ভরত জন্ম নেন আর সুমিত্রার ঘরে যমজ পুত্র লক্ষণ আর শত্রুঘ্ন জন্ম নেন

#এই হল রাম লক্ষণ ভরত শত্রুঘ্নদের জন্ম কাহিনী।

#একই সময়ে লক্ষ্মী মিথিলার রাজা জনকের ঘরে সীতা বা জানকী হয়ে জন্ম নেন আর দেবতারা সব বানর হয়ে জন্ম নেন। চৌদ্দ বছর বনবাস সহ প্রায় এগার হাজার বছর রাজত্ব/ লীলা শেষ করে সরজু নদীতে প্রথমে লক্ষণ পরে রাম বিলীন হয়ে যান। শুভ রাম নবমী। সবাইকে রামনবমীর শুভেচ্ছা।জয় সীতারাm

রামায় রামভদ্রায় রামচন্দ্রায় মেধষে।🏹

রঘুনাথায় নাথায় সীতায়ৈ পতয়ে নমঃ।

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম