হান্তু এয়ার প্রেত




 হান্তু এয়ার হল মলয় উপকথায় এক ধরনের প্রেত যারা বাস করে অব্যবহৃত জলাশয়ে। তবে কোন কোন জনশ্রুতিতে এটাও বলা হয় যে এরা বসবাস করে যে কোন রকমের (ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত) জলাশয়ে, যেমন নদী, হ্রদ, পুকুর ইত্যাদিতে। এদের আরও কিছু নামে সম্বোধন করা হয়, যেমন পুয়াকা এয়ার অথবা মাম্ব্যাং এয়ার। মানুষের সাথে এদের যোগাযোগ ভালো আর খারাপ দুই রকমেরই হতে পারে। আর সেটা নির্ভর করে সেই মুহূর্তে মানুষের কর্মের উপর। হান্তু এয়ারদের সাথে যোগাযোগ করার আরও একটা উপায় হল এদের ডাকার জন্য করতে হয় কিছু উপাচার। জলে ডুবে মানুষের মৃত্যু, বন্যা অথবা জল ঘটিত বিভিন্ন মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় এই হান্তু এয়ারদের।

উপকথায় বলা হয় যে সব জলাশয়ে এরা বসবাস করে, সেইগুলোর পাড়ে দেওয়া থাকে এদের লক্ষণ রেখা। জলে ঢেউ উঠে সেই ঢেউ পাড়ের যতদূর পৌঁছায়, ততদূর হল এই প্রেতদের সিমান্ত। মলয় উপকথায় বলা হয়েছে এই হান্তু এয়ার-দের বিরক্ত করা উচিৎ নয়, তারা ক্রুদ্ধ হলে মানুষের সামনে এসে হাজির হয় এই জলের প্রেত। মানুষের সাথে হান্তু এয়ারদের সাক্ষাৎ-কে বলা হয় ‘গেমুক এয়ার’।
কিছু কাহিনী অনুযায়ী, এদের চেহারা হয় মানুষের মত তবে এদের শরীরটা হয় জল দিয়ে তৈরি। তবে অন্য কিছু কাহিনী অনুযায়ী, এদের দেখতে হয় টাক মাথা দাড়ি-ওয়ালা মানুষ যাদের শরীর ঢাকা থাকে মাছের আঁশ দিয়ে। এদের হাতে থাকে বেশ বড় বড় ধারালো নখ। হান্তু এয়ার হল সেই সব মানুষের আত্মা যারা কোন কারণে আটকে পড়েছিল কোন তান্ত্রিকের হাতে। তারপর সেই তান্ত্রিক তাদের মুক্ত করে দিলে তারা পরিবর্তিত হয় হান্তু এয়ারে। এরা খুবই শক্তিশালী হয় আর মাঝে মধ্যেই এরা জলে ভেসে যাওয়া গাছের গুঁড়ির রূপ নিয়ে থাকে। আর সেই সময় যদি কোন মানুষ সেই জলাশয়ে নামে, তাকে এরা জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলে।
মলয় উপকথায় এই হান্তু এয়ার আর বিখ্যাত পৌরাণিক নায়ক বাদাং-এর কাহিনী বর্তমান। এই কাহিনীতে বলা হয়েছে কি করে বাদাং নামক একজন ক্রীতদাসের সাক্ষাৎ হয় একটি হান্তু এয়ারের সাথে আর বাদাং সেই প্রেতের থেকে লাভ করে অসামান্য শক্তি।
বাদাং একদিন নদীতে মাছ ধরতে এসে দেখে নদীতে একটিও মাছ নেই। এই মাছ না থাকার কারণ সন্ধান করার সময় সে এক রাতে এসে হাজির হয় সেই নদীর ধারে। সে দেখে একটি হান্তু এয়ার জল থেকে উঠে বাদাং-এর জালে ধরা পড়া মাছ খাচ্ছে। সেই প্রেতের চোখ ছিল ভাটার মত লাল, চুল ছিল অবিনস্ত। তার চামড়া ছিল অমসৃণ, লম্বা দাড়ি ছুয়েছে তার নাভি। তার হাতে ছিল একটা হাতল ছাড়া ছুরি। বাদাং সেই প্রেতকে ধরে ফেলে। তখন নিজের মুক্তির জন্য সে রাজি হয় বাদাং-কে একটি বর দিতে। বাদাং চেয়ে বসে অসামান্য শক্তি। হান্তু এয়ার বলে যে সে যদি তার বমি খেতে পারে, তাহলেই সে লাভ করবে সেই অসামান্য শক্ত। নিজের ক্রীতদাস জীবন থেকে মুক্তির আশায় বাদাং রাজি হয়ে যায় আর লাভ করে অসামান্য শক্তি।
নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম