আমি কে, কে আমি ?


 আমি কে, কে আমি ? ভগবান কেন আমাকে সৃষ্টি করিয়া এই সুন্দর পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, এর আসল উদ্দেশ্য রহস্য কি?


আমার জন্মের পূর্বে আমি কোথায় ছিলুম, মৃত্যুর পরেই বা আমি যাইবো কোথায়? এই পৃথিবীতে আসিয়া আমার করণীয় কি, আমি কি তাহা করিতে পারিতেছি? আমি যখন মাতৃগর্ভে ছিলুম তখন ভগবানকে কথা দিয়ে এসেছিলুম যে-- হে ভগবান, তুমি আমাকে এই অন্ধকার জগত থেকে পৃথিবীর আলোকোজ্জ্বল পথে নিয়ে চলো আমি পৃথিবীতে গিয়ে তোমার নাম গুণকীর্তন করিবো তোমার সেবায় সার্বক্ষণিক নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো নিজের জীবন উৎসর্গ করিবো এই সুন্দর আলোকোজ্জ্বল পৃথিবীতে আসিয়া আমি কি তাঁহার কথা রাখিতে পারিতেছি? যদি তাহা না পারি, তাহলে আমি তাঁহাকে কেনই বা কথা দিয়ে এসেছিলুম?

সত্যিকারার্থে, এই মায়াময় জগৎসংসারে কেউ কারোর নয়। পিতা-মাতা, স্ত্রী-কন্যা, পুত্র-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবমিলিয়েই আসলে একটা মায়ার জাগতিক বন্ধন সৃষ্টি হয়। আর এই বন্ধনই হল পিছুটান। আমরা যখন পৃথিবীতে এসেছিলুম একাই এসেছিলুম, যখন চলিয়া যাইবো একাই চলিয়া যাইবো। কেউই সঙ্গে যাইবে না। সব ফাঁকি, সব ফাঁকি। তাই সময় থাকিতে সকলে সাবধান হইয়া যান। সবকিছুরই উর্দ্ধে ভগবানকে অনুধাবন করিতে শেখেন। সময় যে চলিয়া যায়, পিছু পড়িয়া আছো কিসের আশায়! ভাবিয়া দেখ মন-- সবি আমার আমার মনেহয়, আসলে তো কোনকিছুই আমার নয়। তাই আর করিয়ো না দেরি, মহামুক্তি পাইতে চাও যদি এসেছে কলিরও অবতার, শ্রীচৈতন্য নামটি যাঁহার। সবকিছুই উজাড় করিয়া দাও ফেলে, লুটাও সবে শ্রীচৈতন্যদেবের চরণতলে





তাই সকলে মোহ-মায়া, কাম-ক্রোধ, হিংসা-লোভ, মারামারি-হানাহানি, সংঘাত-সহিংসতা সহ সকলপ্রকার দৈন্যতা পরিহার করিয়া আজ থেকেই ভগবানের প্রীতি কল্যাণের জন্য কাজ শুরু করুন। দেখবেন, ইহজাগতিক সকল বন্ধন ঘুচিয়ে অচিরেই পারমার্থিক পথের দিশা খুঁজে পেয়েছেন। আর তখনই আপনার মানবজীবন সার্থক ধন্য। আপনার আধ্যাত্মিক অজানা সকল প্রশ্নের উত্তর তখনই খুঁজিয়া পাইবেন। তখন আপনার প্রকৃতির মধ্যকার কোন তফাৎ উপলব্ধি করিতে পারিবেন না আপনি অনন্ত অসীমের মধ্যে লীন হইয়া যাইবেন। পারমার্থিক পথের সন্ধান তথা অমৃতরস আস্বাদন করিতে পারিবেন। যে রস আস্বাদন করিলে আপনাকে আর আসা-যাওয়ার স্রোতে ভাসিতে হইবে না। মহান সৃষ্টিকর্তা ভগবান নিজেই আপনাকে ডাকিয়া নিয়ে তাঁহার সভায় শ্রেষ্ঠ আসনে অলঙ্কিত করিবেন। এই ভবসংসার জ্বালা থেকে চিরকালের জন্য আপনি মহামুক্তির আলোয় উদ্ভাসিতমুখে স্বর্গোদ্যানে গমন করিবেন। আর তখনই স্বর্গলোকে আনন্দঘন্টা বাঁজিয়া উঠিবে। পরমেশ্বর ভগবান তথা সকল দেব-দেবতাগণ পরমানন্দে উৎফুল্ল হইয়া উঠিবে। একইসাথে সমস্ত সৃষ্টিজগত তথা ত্রিভুবনব্যাপী আনন্দের জয়জয়কার তথা পুষ্পবৃষ্টি শুরু হইবে। সমগ্রসৃষ্টি একই-সুরে ঐক্য সাম্যের তালে গাহিয়া উঠিবে সৃষ্টিকর্তার স্রষ্টব্য জয়গান।
নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম