অনেক সময় একটা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ক্ষোভ, অনুযোগ ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করবার উদ্দেশ্যে অদৃশ্য যাদুটোনার মাধ্যমে একই সাথে পরিবারের সকল সদস্যকে অসুস্থ বানিয়ে তোলা হয়, যাতে কেউ কারো দিকে খেয়াল দেবার অবকাশ না থাকায় প্রত্যেকের মনে নিজে অবহেলিত হয়েছে ভেবে অপরজনের প্রতি অসন্তোষ পয়দা হয়, আবার অসন্তোষের শিকার ব্যক্তির মনে নিজের অসুস্থতা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি অপরের প্রতি অবহেলার অভিযোগটা কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা হয়ে ফেতনার আগুনে ঘি ঢালার কাজ দেয়। মনে করুন, কোন এক ছোঁয়াচে রোগ এসে আপনার পিতামাতা ও বউ-বাচ্চা সবাইকে একই সাথে আক্রান্ত করল। এমতাবস্থায় আপনি ও আপনার স্ত্রী আপনার পিতামাতার খোঁজ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দায়িত্বহীনতা ও হৃদয়হীনতার দায়ে অভিযুক্ত হলেন। তদুপরি বাচ্চার অসুস্থতার পিছনে অপর কারো খামখেয়ালীপনা (যেমন- ছোঁয়াচে রোগ জেনেও বিনা প্রয়োজনে বাচ্চাকে কাছে টেনে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা) সংযুক্ত থাকা এবং অসুস্থতার মাত্রার দিক থেকে বাচ্চার অবস্থা বেশি মারাত্মক হওয়ায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত
উল্টো অভিযোগ আপনাদেরকেও পাল্টা বিক্ষুব্ধ করে তুলবে। এহেন পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনে তাদের হাত থাকাই স্বাভাবিক, যারা আপনার পিতামাতার সাথে আপনার বিরোধ ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে আপনাকে বিতাড়িত করানোর ধান্ধায় নিয়োজিত।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দাম্পত্য সুখ ও ভালোবাসা কাদের কাম্য নয়, তা সংশ্লিষ্টদের কথাবার্তার সুর শুনেই বুঝতে পারবেন।যাদুটোনার
দ্বারা শুধু হিংসা-বিদ্বেষ ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টির মাধ্যমেই হানাহানি ঘটানো হয় না, বরং স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য মিলনেও বিঘ্ন ঘটানো হয়। আর এক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটাতে পারলে ক্রোধ-বিরক্তি ও বিভেদ-হানাহানি সৃষ্টিতে আর কিছুর প্রয়োজন হয় না।
যেকোন দুইজন মানুষের মধ্যে বিভেদ, হানাহানি ও অশান্তি সৃষ্টির জন্য তাদের মধ্যে যেকোন একজনকে শারীরিক, আর্থিক ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনে দুর্বল, অক্ষম, অথর্ব ও ব্যর্থ করে রাখা এবং অপরজনকে ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত করে রাখাটাই মোক্ষম পন্থা। আর কুচক্রী যাদুকররা কোন দম্পতি বা পরিবারের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য এ কাজটিই করে থাকে। যাকে অসুস্থ, অক্ষম ও অপারগ বানানো বেশি সহজ, তাকে তাই বানায়। আর যাকে উত্তেজিত করা বেশি সহজ, তাকে তাই করে। আবার কাউকে অধৈর্য্য ও উত্তেজিত করা তথা মেজাজ বিগড়ে দেবার জন্য তার উপর শারীরিক অসুস্থতা এবং সাংসারিক ও কূটনৈতিক চাপও আরোপ করে থাকে। কারণ, জীবনসঙ্গীর অক্ষমতা ও ব্যর্থতার পাশাপাশি নিজের উপর আরোপিত শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক চাপ হতাশা, ক্ষোভ ও বিদ্রোহ সৃষ্টিতে জ্বালানী হিসেবে কাজ করে।
