আমাদের কৃষ্ণের কাছে কি প্রার্থনা করা উচিত ও উচিত নয়?
ধ্রুব মহারাজ বললেন," যারা এই চামড়ার থলিটির ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য কেবল আপনার পূজা করে, তারা অবশ্যই আপনার মায়া শক্তির দ্বারা প্রভাবিত। সংসার বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার কারণ স্বরূপ আপনার মত কল্পবৃক্ষকে
পাওয়া সত্বেও, আমার মত মূর্খ ব্যক্তিরা সেই ইন্দ্রিয় তৃপ্তি লাভের জন্য আপনার কাছে বর প্রার্থনা করে, যা নরকেও লাভ হয়।" ভাগবত: ৪/৯/৯।
তাৎপর্যঃ তাঁর কাছে যা-ই কামনা করা যায়, তাই পাওয়া যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষ জানে না তাঁর কাছে কি বর প্রার্থনা করা উচিত। স্পর্শজনিত সুখ বা ইন্দ্রিয়সুখ শুকর এবং কুকুরেরাও লাভ করে থাকে। এ প্রকার সুখ অত্যন্ত তুচ্ছ। ভক্ত যদি এই প্রকার সুখের জন্য ভগবানের আরাধনা করেন, তবে বুঝতে হবে যে, তিনি সম্পূর্ণরূপে জ্ঞানহীন।
কর্মীদের অবস্থা আরও নিকৃষ্ট, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে উচ্চতর লোকে উন্নীত হওয়া। বলা হয়েছে যান্তি দেবব্রতা দেবান্ - যারা দেব দেবীদের পূজা করে তারা স্বর্গলোকে উন্নীত হয়। ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি - যারা উচ্চতর লোকে উন্নীত হয় তাদের পুণ্যকর্ম ক্ষয় হয়ে গেলে তারা পুনরায় মর্তলোকে ফিরে আসে। তাদের অবস্থা ঠিক আধুনিক যুগের মহাকাশচারীদের মত যারা চন্দ্রলোকে যায় কিন্তু তাদের ইন্ধন ফুরিয়ে গেলেই তাদের এ পৃথিবীতে ফিরে আসতে হয়। এই শ্লোকে পততাং বিমানাৎ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিমান মানে হচ্ছে আকাশযান। যারা স্বর্গলোকে উন্নীত হয়, তারা যেন এক একটি বিমানের মত ইন্ধন ফুরিয়ে গেলে যেগুলিকে নিচে নেমে আসতে হয়।
