মিনেটর হল গ্রীক উপকথার এক অদ্ভুত জীব , একাধিক প্রাচীন গ্রীক উপকথায় পাওয়া যায় এই মানুষের শরীর আর ষাঁড়ের মাথা বিশিষ্ট মিনেটরের কাহিনী। রাজা মিনোসের আদেশে তৈরি করা একটা কঠিন গোলোকধাঁধাঁর মাঝখানে বাস করে মিনেটর। অবশেষে অ্যাথেন্স-এর বিখ্যাত যোদ্ধা থেসিয়াসের হাতে মৃত্যু হয় মিনেটরের।
মিনেটর কথাটার উৎপত্তি হয়েছে গ্রীক বাক্যাংশ ‘Μίνως’ আর ‘ταῦρος’ থেকে। ‘Μίνως’ মানে হল মিনোস আর ‘ταῦρος’ মানে হল ষাঁড়। অর্থাৎ মিনোসের ষাঁড়। উপকথার ক্রিট প্রদেশে মিনেটরকে বলা হত অ্যাসারিয়ন।
এবার আসা যাক এই মিনেটরের কাহিনীতে। মিনোস তার ভাইদের যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করেন ক্রিট-এর রাজসিংহাসন।
মিনোস সমুদ্রের দেবতা পোসাইডনের কাছে প্রার্থনা করেন ঈশ্বরের কাছে বলি দেওয়ার জন্য একটি দুধ সাদা ষাঁড় পাঠানোর জন্য। পোসাইডন একটা দুধ সাদা ষাঁড় পাঠালে সেটার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সেটাকে নিজের পোষ্য হিসেবে রেখে দেন। আর ষাঁড়ের বদলে উনি বলি দেন অন্য একটা পশুকে। এই ঘটনায় প্রচণ্ড রকম ক্রুদ্ধ হন পোসাইডন। উনি মিনোসের স্ত্রী, পাসিফেয়-কে অভিশাপ দেন যার ফলে সে প্রেমে পড়ে যায় সেই শুভ্র ষাঁড়টার। পাসিফেয় তখন ডায়েডালুস-কে বলেন একটা শুভ্র কাঠের গরু বানিয়ে দিতে। সেই কাঠের গরুর ভীতরে ঢুকে যায় পাসিফেয় আর সেই ভাবেই সে সঙ্গম করে সেই ষাঁড়ের সাথে। কিছুদিন পর পাসিফেয়-এর একটা সন্তান হয় যার শরীরটা মানুষের হলেও মাথাটা ষাঁড়ের। এই হল মিনেটরের জন্মের কাহিনী। ছোট বেলা থেকেই পাসিফেয় মিনেটরের দেখাশোনা করলেও সে যত বড় হতে থাকল, তার শরিরটাও ততাধিক বড় হয়ে গেল। মানুষ আর পশুর সঙ্গমে জন্ম নেওয়া মিনেটরের খাদ্য ছিল অদ্ভুত। সে মানুষকে নিজের খাদ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তখন মিনোস ডায়েডালুস-কে দিয়ে একটা কঠিন গোলোকধাঁধাঁ বানিয়ে মিনেটরকে তার মধ্যে বন্দি করেন।
এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর অ্যাথেন্সের যোদ্ধাদের হাতে খুন হন মিনোসের পুত্র অ্যান্ড্রোজিয়াস। আবার অন্য কিছু কাহিনী অনুযায়ী, অ্যান্ড্রোজিয়াস মারা যায় মিনেটরের পিতা সেই শুভ্র ষাঁড়ের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে। সেই শুভ্র ষাঁড়টাকে বধ করার আদেশ দেন অ্যাথেন্স-এর তৎকালীন রাজা এজিয়াস। ক্রুদ্ধ মিনোস তখন আক্রমণ করেন অ্যাথেন্স আর খুব সহজেই জয় লাভ করেন।
এই ঘটনার পরে রাজা নিয়ম করে দেন যে প্রতি সাত বছর অন্তর সাতটি যুবক আর সাতটি অবিবাহিত যুবতী পাঠাতে হবে মিনেটরের কাছে তার খাবার হিসেবে। প্রথম দুবার পাঠানোর পর তৃতীয়বার অ্যাথেন্সের যুবরাজ থেসিয়াস বলেন যে সে নিজে যাবে মিনেটরের খাদ্য হিসেবে আর সেই সুযোগে সে হত্যা করবে মিনেটর-কে। যাওয়ার আগে সে তার পিতাকে বলে যে সে যদি তার কার্যে সফল হয় তাহলে সে সাদা রঙের পাল লাগিয়ে ফিরে আসবে আর যদি তার মৃত্যু হয় তাহলে পালের রং হবে কালো।
রাজা মিনোসের কন্যা, অ্যারিয়াডনে প্রেমে পড়ে যায় থেসিয়াসের আর সেই তাকে সাহায্য করে মিনেটরের গোলোকধাঁধাঁ থেকে বেরিয়ে আসতে। কাহিনীতে বলা হয়েছে থেসিয়াস কোন অস্ত্র ছাড়াই বধ করে মিনেটরকে।
