"নিজের ঋণ - মিটিয়ে নিন"

 




জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে ষষ্ঠ ভাব থেকে বিচার করা হয় ঋণ। আবার ষষ্ঠ ভাব মানে রিপু বটে! তাহলে ঋণ করে তা সময় মতো না মেটানো যে একপ্রকার রিপু(পাপ) তাতে কোনো সন্দেহই নেই

ঋণ শোধ বিচার করা হয় সপ্তম ভাব থেকে। কারণ কালপুরুষের রাশি চক্রে সপ্তম রাশি হোলো তুলা (অর্থাৎ দাঁড়িপাল্লা) এই রাশিকে বলা হয় চিত্রগুপ্তের দপ্তর বা House of Judgement...নিয়তি এই দাঁড়িপাল্লায় যত পাওনা গন্ডা তা সময়মতো ঠিক বুঝে নেবে! জীবন ভোগ করতে গিয়ে কেউ যদি অন্যায় করে, তুলাদন্ড এক দিকে হেলে গিয়ে ঠিক সে সেই পরিমান দুর্ভোগের ভাগ্য অপরদিকে চাপিয়ে আবার ব্যালেন্স করে নেবেই। তাই সাধু সাবধান

আজ সংক্ষেপে বলবো কোন কোন ঋণ কখনোই ফেলে রাখবেন না?

আপনি যে ঋণই করুন না কেন তা সময় মতো মিটিয়ে দেবার চেষ্টা করুন। তবে নবম ভাবের সাথে যুক্ত ঋণ কখনোই করবেন না বা করলেও অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই যত শীঘ্রই সম্ভব মিটিয়ে নিন। কারণ নবম ভাব স্বয়ং "নিয়তির" দপ্তর। না মেটালে তা পরে আপনাকে সুদে আসলে মেটাতেই হবে, সে ইহো জন্মই হোক কিম্বা পরের জনম !

এখন মনে প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক - নবম ভাব সংক্রান্ত ঋণ কি কি?

▪️নবম মানে পিতা

▪️নবম মানে গুরু

▪️নবম মানে ভাগ্য

▪️মাতা পিতা বা গুরুর ঋণ মেটানো কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই শাস্ত্র মতে এনাদেরকে ভালোবাসুন, শ্রদ্ধা করুন। বিবাহিত মহিলারা পিতার গৃহে যাবার সময় কখনোই খালি হাতে যাবেন না। পিতা মাতার জন্য অবশ্যই কিছু নিয়ে যাবেন। আর পুরুষেরা বাবা মায়ের যদি কিছু আবদার বা ইচ্ছা থাকে তবে মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করুন

▪️এবার আসি গুরু। গুরু - তিনি যেমনি হোন - শিক্ষা গুরু, ধর্ম গুরু বা পথ দ্রষ্টা গুরু - কখনোই সেই গুরু গৃহে খালি হাতে যাবেন না। ছাত্র ছাত্রী হিসাবে গুরুর দক্ষিনা কখনোই ফেলে রাখবেন না। গুরু না চাইলেও আপনার কর্তব্য তা খেয়াল রাখা।

▪️এবার আসি ভাগ্য। ভাগ্য মানে এখানে ভাগ্য বক্তা। অর্থাৎ জ্যোতিষী। অনেকেই আছেন ফ্রি তে জ্যোতিষ বিচার করান বা ভাগ্য জানতে চান। বিশ্বাস করুন - খুব বাজে কাজ। গুরুজী তীব্র ভাবে নিষেধ করতেন আমাদের। এক টাকা হলেও আপনার উচিৎ তাঁকে প্রদান করা। কারণ জগতে বিনামূল্যে বাবা মা গুরুর ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। তাই এই ঋণ আপনাকে শোধ করার জন্য কর্ম ফল দাতা শনির সম্মুখীন হতেই হবে! নইলে আপনার মুক্তি নেই মুক্তি নেই মুক্তি নেই!

কারণ মুক্তির রাশি- মীনে প্রবেশ করতে হলে কর্ম (দশম রাশি মকরের মালিক) এবং কর্মফল দাতা (একাদশ রাশি কুম্ভর মালিক) শনির ঘর দিয়েই পেরোতে হবে। মৃত্যুর দেবতা শনি মহারাজ আপনার হিসাব নিকাশ না চুকিয়ে কি আপনাকে মুক্তি দিতে পারেন?

এবার কি করবেন আর কি করবেন না তা আপনার উপরেই ছেড়ে দিলাম

 

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম